ল্যাইব্রেরী, ঘরে বসে বিশ্ব দেখার সব থেকে সহজ ঠিকানা…

.

অনেক দিন আগের কথা। তখন এই ল্যাইব্রেরী এখনকার মতো এতো রং চং এ ছিলোনা। জরা জীর্ন রংচটা দেয়াল।লম্বা এক টেবিল। তার চারপাশ ঘিরে কিছু চেয়ার। টেবিলের উপর ছরিয়ে থাকা পেপার-পত্রিকা। যতদুর মনে পরে এসব ফ্রীতেই পরা যেতো তখন। বিকেল হলেই সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পরতাম এই ল্যাইব্রেরীর উদ্দেশ্যে। পেপার পত্রিকা দেখতে দেখতে কখন ঘন্টা চলে যেতো টের পেতাম না। টেবিল ঘিরে থাকা বই এর সোকেস গুলো থেকে আমাকে বেশি টানতো ভিতরের ঘরের জরাজীর্ন বই এর তাকে এলোমেলো ভাবে সাজিয়ে রাখা পুরান আর জীর্ন চেহারার বই গুলো। কিন্তু ল্যাইব্রেরীতে বসে বসে গল্পের বই পরে মজা নেই। বাসায় নিতে হবে বই। যতদুর মনে পরে ছোট মামা আমার সেই সমস্যার সমাধান করে দেয়। মেম্বার কার্ড পেয়ে যাই ল্যাইব্রেরীর। আমাকে আর পায় কে? ৪ টা বাজলেই ল্যাইব্রেরীতে দৌড়। এক ঘন্টা পত্রিকা পড়ে, সর্বোচ্চ যত সংখ্যক বই নেয়া যায়, নিয়ে বাসায় রওনা হই। সন্ধার পরে তো আবার স্কুলের পড়া নিয়ে বসার জ্বালা। কে যে এই স্কুলের বই আর পরীক্ষার আবিষ্কার করেছিলো জানিনা। কেনো বাপু, গল্পের বই দিয়ে স্কুল পরীক্ষার ব্যাবস্থা করলে কি এমন ক্ষতি হতো? বিকেলে নিয়ে আসছি গল্পের বই। সন্ধায় কি আর ক্লাসের বই এ মন বসে? তাই সুযোগের অপেক্ষায় থাকা। সুযোগ বুঝে গল্পের বই খুলে বসা। কত্তো বই যে তখন পরা হইছিলো মনেও নেই আর। দারুন ছিলো সময় গুলো। হঠাৎ একদিন ল্যাইব্রেরীতে গিয়ে শুনি বড়সর চুরি হয়ে গেছে ল্যাইব্রেরীতে। তাই ল্যাইব্রেরী বন্ধ। আমি তখন কিছুতেই বুঝতে পারছিলাম না যে, পুরান পুরান বই আবার কে চুরি করতে গেলো। পুরান গল্পের বই ও চুরি হতে পারে সেটা তখনই প্রথম জানলাম। সেই যে বন্ধ হলো ল্যাইব্রেরী, আর যাওয়া হলোনা। বেশ কিছুদিন গিয়ে বন্ধ দেখে চলে আসি। এভাবে একদিন যাওয়া টাও বন্ধ হয়ে গেলো। অনেক দিন পরে সেই ল্যাইব্রেরীর সামনে গিয়ে তার পরিবর্তীত রূপ দেখে চলতি পথে একটা ছবি নিতে ভুল করলাম না। অনেক পছন্দের একটা জায়গা ছিলো এটা। ভাবতেই, কেমন জানি একটা, ছোটবেলা ছোটবেলা ফিলিংস কাজ করে… হাহাহা…

স্থানঃ নওগাঁ সদর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *